মসজিদুল হারামের অদূরে অবস্থিত পবিত্র জমজম কূপ ইসলামের ইতিহাসে এক অনন্য ও অলৌকিক নিদর্শন। হযরত হাজেরা
(আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর স্মৃতিবিজড়িত এই বরকতময় পানি হাজার বছরের বেশি সময় ধরে অবিরাম
প্রবাহিত হয়ে আসছে। নবী করিম (সা.) নিজে
জমজমের পানি পান করেছেন এবং এর নিয়ম ও দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন।
সহিহ হাদীসে এসেছে, “জমজমের পানি যে নিয়্যাতে পান করা হয়, আল্লাহ তা পূর্ণ করেন।” জমজমের পানি পান করার
সময় মনোযোগ সহকারে দোয়া করা অত্যন্ত বরকতময় আমল। যেমন সাহাবী ইবনু আব্বাস (রা.) পড়তেন—
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক এবং সকল রোগ থেকে আরোগ্য প্রার্থনা করছি।”
এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে জ্ঞান, রিজিক ও আরোগ্য প্রার্থনা করা হয়, যা হজ্জ ও উমরাহ যাত্রীদের জন্য এক বিশেষ আত্মিক অনুপ্রেরণা।
জমজমের পানি হলো মক্কা নগরীর পবিত্র কাবা শরিফের পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক জমজম কূপের পানি। ইসলামী ইতিহাস অনুযায়ী,
হযরত ইসমাইল (আ.)-এর জন্য আল্লাহ তাআ’লা এই পানির ব্যবস্থা করেন, যখন হযরত হাজেরা (আ.) পানির সন্ধানে সাফা ও
মারওয়ার মাঝে দৌড়াচ্ছিলেন।
সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত, হাজার হাজার বছর পেরিয়ে গেলেও এই কূপের পানি কখনো শুকিয়ে যায়নি। এই বাস্তব অলৌকিক
ঘটনাই জমজমের পানিকে অন্য সব পানির থেকে আলাদা করেছে।
হাদিসের আলোকে জমজমের পানির গুরুত্ব ও ফজিলত
মুসলমানদের কাছে জমজমের পানি কেবল তৃষ্ণা নিবারণের মাধ্যম নয়; বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ
নেয়ামত—যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বরকত, দোয়া কবুল ও আত্মিক প্রশান্তি। রাসূলুল্লাহ (সা.) জমজমের পানির বিষয়ে
বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। সহিহ হাদিসে এসেছে—
“জমজমের পানি সেই উদ্দেশ্যের জন্যই উপকারী, যে উদ্দেশ্যে তা পান করা হয়।” (সুনান ইবন মাজাহ, হাদিস
নম্বর: ৩০৬২)
অর্থাৎ, মানুষ যে নিয়তে জমজমের পানি পান করে—ইলম, সুস্থতা, রিজিক বা আত্মিক প্রশান্তি—আল্লাহ তাআলা সেই নিয়ত
অনুযায়ী কল্যাণ দান করেন। এ কারণেই জমজমের পানি পান করার সময় নিয়তের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জমজমের পানি খাওয়ার আগে যেসব আদব মানা উত্তম
জমজমের পানি পান করা শুধু শারীরিক কাজ নয়, বরং একটি ইবাদতের অংশ। তাই কিছু আদব অনুসরণ করা সুন্নাহসম্মত। নিম্নের
এই প্রস্তুতিগুলো জমজমের পানি পান করার সময় মনোযোগ ও আত্মিক অনুভূতিকে গভীর করে।
মনে মনে পরিষ্কার নিয়ত করা
সম্ভব হলে কিবলার দিকে মুখ করা
শান্ত ও সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখা
তাড়াহুড়া না করা
বিসমিল্লাহ বলা
জমজমের পানি খাওয়ার নিয়ম ও শিষ্টাচার
জমজমের পানি পান করা একটি সম্মানিত ও ফজিলতপূর্ণ আমল। তাই এটি পান করার সময় কিছু শিষ্টাচার ও আদব অনুসরণ করা
উত্তম। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন —
“إِذَا شَرِبْتَ مِنْهَا، فَاسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ، وَاذْكُرِ اسْمَ اللهِ، وَتَنَفَّسْ ثَلاَثًا، وَتَضَلَّعْ
مِنْهَا، فَإِذَا فَرَغْتَ، فَاحْمَدِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ
: إِنَّ آيَةَ مَا بَيْنَنَا، وَبَيْنَ
الْمُنَافِقِينَ، إِنَّهُمْ لاَ يَتَضَلَّعُونَ مِنْ زَمْزَمَ”
অনুবাদ: “যখন তুমি জমজমের পানি পান করবে, তখন কিবলামুখী হও, আল্লাহর নাম স্মরণ করো, তিন নিশ্বাসে পান করো,
পেট ভরে পান করো এবং শেষে আল্লাহর প্রশংসা করো। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমাদের ও মুনাফিকদের পার্থক্য হলো —
মুনাফিকরা পেটভরে জমজমের পানি
পান করে না।” (ইবন মাজাহ, আস-সুনান, ৩০৬১)
জমজমের পানি পান করার ৫টি সুন্নাহ
জমজমের পানি পান করার ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ (সা.) ও সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত কিছু সুন্নাহ রয়েছে। এগুলো ধাপে
ধাপে অনুসরণ করলে এই আমল আরও অর্থবহ ও ফজিলতপূর্ণ হয়—
কেবলামুখী হয়ে পান করা: সম্ভব হলে কিবলার দিকে মুখ করে বসা বা দাঁড়িয়ে জমজমের পানি পান করা উত্তম।
“বিসমিল্লাহ” বলা: পান করার আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করা সুন্নাহ এবং বরকতের কারণ।
তিনবারে (তিন নিশ্বাসে) পান করা: একবারে না খেয়ে ধীরে ধীরে তিন চুমুকে পান করা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর
শিক্ষা।
পেট ভরে পান করা: জমজমের পানির একটি বিশেষ সুন্নাহ হলো—তৃপ্তি সহকারে পেট ভরে পান করা।
শেষে “আলহামদুলিল্লাহ” বলা: পান শেষ করে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা সুন্নাহ।
নোট: এছাড়াও নিজের চাওয়া নিয়্যাতে দোয়া করা এবং কিছুটা পানি মাথায় ঢালা (রাসূল সা. এর আমল অনুসারে)।
জমজমের পানি খাওয়ার দোয়া সমূহ
জমজমের পানি শুধু তৃষ্ণা নিবারণের জন্য নয়; বরং ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী এটি দোয়া কবুল ও আত্মিক প্রশান্তির
একটি বরকতময় মাধ্যম। সহিহ হাদীসে এসেছে—যে নিয়্যাতে জমজমের পানি পান করা হয়, আল্লাহ তায়ালা সেই নিয়্যত
অনুযায়ী কল্যাণ দান করেন।
তাই জমজমের পানি পান করার সময় মনোযোগ সহকারে দোয়া করা সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত একটি মুবারক আমল।
১. যমযমের পানি পানের সময় ইবনু আব্বাস (রাঃ) যে দোয়া পড়তেন —
অর্থ: “হে আল্লাহ! আমি এই পানি পান করছি কিয়ামতের দিনের পিপাসা নিবারণের জন্য।” (তারিখ দিমাশক, ৩২/৪৩৬)
২. আল্লামা জালালুদ্দিন সুয়ুতি (রহ.) উল্লেখ করেন —
হাফিজ ইবনু হাযর আসকালানি (রহ.) জমজমের পানি পান করে দোয়া করেছিলেন যেন তাঁর স্মৃতিশক্তি ইমাম জাহাবীর মতো হয়।
পরে তাঁর স্মৃতিশক্তি সেই স্তরে পৌঁছেছিল — বরং আরও উন্নত হয়েছিল। (তাবাকাতুল হুফফাজ, ১/৫২২)
জমজমের পানি পানের গুরুত্ব ও ফজিলত
জমজমের পানি সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ নিয়ামত ও বরকতময় পানীয়। সহিহ হাদিসে প্রমাণিত,
রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে জমজমের পানি পান করেছেন এবং এর ফজিলত বর্ণনা করেছেন।
অর্থ: “জমজমের পানি বরকতময়, এটি ক্ষুধার জন্য খাদ্য ও তৃষ্ণার জন্য পানীয়।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৪৭৩)
৩. হজরত আয়েশা (রা.) বলেন,
“রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে পাত্র ও মশকে করে জমজমের পানি বহন করতেন, তা অসুস্থদের ওপর ছিটিয়ে দিতেন এবং তাদের পান
করাতেন।” (সুনানে তিরমিজি)
৪. মুসনাদে তায়ালুসির বর্ধিত বর্ণনায় উল্লেখ আছে —
“এটি রোগীর জন্য ওষুধও বটে।”
উপরের হাদিস থেকে বোঝা যায়, জমজমের পানি বহন করা জায়েজ, এবং দূরে অবস্থানকারীদের জমজমের পানি পান করানো
রাসূলুল্লাহ (সা.) এর সুন্দর এক সুন্নাহ।
Have questions about our Hajj and Umrah packages?
For you desired umrah packages & prices please feel free to send us a mail. You will get details of our umrah packages from us within very short time In Sha Allah. For any urgency please call us:
অর্থ: “নবী (সা.) জমজমের পানি বালতি থেকে দাঁড়িয়ে পান করেছেন।” (মুসলিম, ৫১০৯)
উপরিউক্ত হাদীসদ্বয় থেকে স্পষ্ঠ হয় যে জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করাই উত্তম।
কখন জমজমের পানি পান করা উত্তম?
জমজমের পানি নির্দিষ্ট কোনো সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তবে হাদিস ও আলেমদের নির্দেশনা অনুযায়ী কিছু সময়
রয়েছে, যখন এটি পান করা বিশেষভাবে ফজিলতপূর্ণ ও অর্থবহ মনে করা হয়। যেমন—
তাওয়াফ শেষ করার পর, যখন দোয়া কবুলের আশা বেশি থাকে
সাফা ও মারওয়ার সাঈ সম্পন্ন করার পর
ইবাদত, দোয়া বা একাগ্র অবস্থায়, মন শান্ত ও নিয়্যত স্পষ্ট থাকলে
হজ্জ বা উমরাহ পালনকালে, বিশেষ করে ক্লান্তি বা তৃষ্ণার সময়
নোট: মূল বিষয় হলো সময় নয়, বরং নিয়্যত ও একাগ্রতা। যে কোনো সময় সম্মান ও আদব বজায় রেখে জমজমের পানি
পান করা যায়।
জমজমের পানি ও আমাদের করণীয়
জমজমের পানি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিশেষ নেয়ামত, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাস, ইবাদত এবং গভীর
আত্মিক শিক্ষা। এটি পান করার সময় নিয়ম, আদব ও সুন্নাহ অনুসরণ করা আমাদের দায়িত্ব। নিয়্যত সহকারে দোয়া করা,
সম্মানের সঙ্গে ব্যবহার করা এবং অপচয় এড়িয়ে
চললেই জমজমের পানির প্রকৃত বরকত লাভ করা যায়।
হলি হজ এন্ড ওমরাহ বাংলাদেশর ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একটি বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ হজ ও উমরাহ সেবা
প্রতিষ্ঠান। আমরা বিশ্বাস করি, হজ্জ ও উমরাহ জীবনের অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত।
তাই ভিসা প্রক্রিয়া, টিকিট, হোটেল ও পরিবহন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে মক্কা–মদিনায় জিয়ারাত, দোয়া ও
ইবাদতের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা—সবকিছুই আমরা পরিকল্পিত ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করি। যাতে আমাদের অভিজ্ঞ গাইড ও সহায়ক টিমের তত্ত্বাবধানে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও
মনোযোগের সঙ্গে ইবাদত করতে পারেন।
পরিষ্কার, শুকনো ও ভালোভাবে সিল করা পাত্রে রাখলে জমজমের পানি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়।
সাধারণত এটি সহজে নষ্ট হয় না। তবে পাত্রে হাত দেওয়া, খোলা বা নোংরা পরিবেশে রাখলে পানি
দূষিত হতে পারে। তাই বরকত ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রেখে
সংরক্ষণ করাই উত্তম।
জমজমের পানি খেলে কি দোয়া কবুল হয়?
জ্বী,সহিহ হাদিসে এসেছে—জমজমের পানি যে নিয়্যাতে পান করা হয়, আল্লাহ তায়ালা সেই নিয়্যত
অনুযায়ী কল্যাণ দান করেন। অর্থাৎ, দোয়া কবুল হওয়া নির্ভর করে আল্লাহর ইচ্ছা ও
বান্দার নিয়্যতের ওপর। তাই জমজমের পানি পান করার সময়
মনোযোগ ও একাগ্রতার সঙ্গে দোয়া করা সুন্নাহ।
জমজমের পানি দিয়ে কি গোসল করা যায়?
হ্যাঁ, শরিয়াহ অনুযায়ী জমজমের পানি দিয়ে গোসল করা জায়েজ। তবে যেহেতু এটি অত্যন্ত সম্মানিত ও
বরকতময় পানি, তাই অপ্রয়োজনীয় বা অসতর্ক ব্যবহারের পরিবর্তে সম্মান ও আদব বজায় রেখে ব্যবহার
করাই উত্তম।
জমজমের পানি কোথা থেকে এসেছে?
জমজমের পানি এসেছে মক্কা নগরীর পবিত্র কাবা শরিফের নিকটবর্তী জমজম কূপ থেকে। ইসলামী ইতিহাস
অনুযায়ী, আল্লাহ তাআলা হযরত হাজেরা (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-এর জন্য এই পানির
ব্যবস্থা করেন। সেই থেকেই এই কূপের পানি আজ পর্যন্ত প্রবাহিত হচ্ছে।
জমজমের পানি খেলে কি হয়?
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, জমজমের পানি পান করলে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বরকত, আত্মিক প্রশান্তি
এবং নিয়্যত অনুযায়ী উপকার লাভ হয়। এটি শুধু শারীরিক তৃষ্ণা নিবারণ নয়; বরং ইবাদতের অংশ
হিসেবেও বিবেচিত।
পিরিয়ডের সময় জমজমের পানি স্পর্শ করা যাবে কি?
হ্যাঁ, পিরিয়ডের সময় জমজমের পানি স্পর্শ করা ও পান করা জায়েজ। শরিয়াহতে এতে কোনো নিষেধাজ্ঞা
নেই। মাসিক অবস্থায় কিছু ইবাদত সীমিত হলেও পানাহার বা বরকতময় পানি গ্রহণে কোনো বাধা নেই।
যমযম পানি দাঁড়িয়ে পান করা কি সুন্নত?
সহিহ হাদিসে প্রমাণিত, নবী করিম (সা.) জমজমের পানি দাঁড়িয়ে পান করেছেন। সে কারণে অনেক
আলেম দাঁড়িয়ে পান করাকে উত্তম মনে করেন। তবে বসে পান করাও বৈধ এবং এতে কোনো গুনাহ নেই।
জমজমের পানি খাওয়ার আরবি দোয়া কি?
জমজমের পানি পান করার সময় সাহাবি ইবনু আব্বাস (রা.) যে দোয়া পড়তেন তা হলো—
অর্থ:“হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক ও সকল রোগ থেকে আরোগ্য
চাই।” (আহমদ, আল-মুসনাদ, ৩/৩৯৪)। এই দোয়ার মাধ্যমে উপকারী জ্ঞান, প্রশস্ত রিজিক ও আরোগ্য
কামনা করা হয়।
জমজম কূপের পানি দাঁড়িয়ে পান করতে হয় কেন?
কারণ সহিহ হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) নিজে জমজম কূপ থেকে দাঁড়িয়ে পানি পান করেছেন। এই
আমল অনুসরণ করেই অনেক আলেম দাঁড়িয়ে পান করাকে সুন্নাহ বা উত্তম বলে মনে করেন। তবে বসে পান
করলেও শরিয়াহসম্মত।
Learn about the mosques in Makkah, Saudi Arabia, the heart of Islam. Start your sacred journey with us today. Call now for details and booking assistance!